প্রতিটি হাত ধরার পেছনে থাকা বিশ্বাস ও ইতিহাস।
২০০২ সাল থেকে পিপল রিএনিমেট এন্ড অ্যাডভান্সমেন্ট কমিউনিটি (প্রাক) সুবিধাবঞ্চিত ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে — বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে।
যেভাবে শুরু হয়েছিল প্রাক-এর পথচলা
দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পার হলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের মতো মানুষের মৌলিক অধিকার এখনও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এখনও রাস্তার পাশে, স্টেশনে, গাছতলায়, ফুটপাতে অসংখ্য মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, শুধু রাজধানী ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় সাড়ে তিন হাজার বস্তিতে আনুমানিক ৯ লাখ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে, যাদের উল্লেখযোগ্য অংশ শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।
এই দায়বদ্ধতা থেকেই পিপল রিএনিমেট এন্ড অ্যাডভান্সমেন্ট কমিউনিটি (প্রাক)-এর পথচলা শুরু। শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে এই জনগোষ্ঠীকে গড়ে তুলতে পারলে, ভবিষ্যতে তারাই দেশ গড়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে — এই বিশ্বাসেই আমাদের প্রতিটি কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
এক নজরে প্রাক
- পূর্ণ নাম
- পিপল রিএনিমেট এন্ড অ্যাডভান্সমেন্ট কমিউনিটি (প্রাক)
- নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ
- সমাজসেবা অধিদপ্তর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
- নিবন্ধন নম্বর
- X-07069
- নিবন্ধনের তারিখ
- ২৩শে জুন, ২০০২
- চেয়ারম্যান
- কর্ণেল (অবঃ) প্রফেসর ডা. জেহাদ খান
- প্রধান কার্যালয়
- বাসা-1143, রোড-10, এভিনিউ-09, মিরপুর ডিওএইচএস, মিরপুর-12, ঢাকা-1216
ভিশন, মিশন ও মূল মূল্যবোধ
ভিশন
সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠী আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতে শামিল হয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাবে।
মিশন
সুবিধাবঞ্চিত, নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মাধ্যমে সুস্থ ও কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
মূল মূল্যবোধ
স্বচ্ছতা, কমিউনিটি-কেন্দ্রিকতা ও ধারাবাহিকতা — প্রতিটি টাকার হিসাব রাখা, মানুষের সঙ্গে মিলে কর্মসূচি তৈরি করা এবং নিয়মিত সহায়তার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন নিশ্চিত করা।
পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা দল
মেয়াদ ২০২৪–২০২৬। যাদের নেতৃত্বে প্রাক-এর প্রতিটি কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
পরিচালনা পর্ষদ (২০২৪–২০২৬)
ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যবৃন্দ
কর্মসূচি অনুযায়ী যোগাযোগ নম্বর
যে সেবা প্রয়োজন, সরাসরি সেই বিভাগে কল করুন — আমাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানিক সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে।
আমাদের ইতিহাস তো জানলেন — এবার একসাথে পথ চলুন।
যাকাত, সাদাকা ও বিশেষ অনুদান — সরাসরি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে যায়, শেষ টাকা পর্যন্ত হিসাব থাকে।
চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানসমূহ
নিজস্ব সেবা কেন্দ্রের পাশাপাশি, বিভিন্ন চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও প্রাক সেবা পৌঁছে দেয়। এছাড়া মিরপুর শেওড়াপাড়া ও মিরপুর ডিওএইচএস-এ প্রাক পরিচালিত ডায়াগনস্টিক ও পেশেন্ট কেয়ার (ডিপিসি) সেন্টার থেকে নমুনা সংগ্রহ, ফিজিওথেরাপি ও বাসায় গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়।